ইহুদীদের কাঙ্ক্ষিত লাল গাভীর সন্ধানঃ বিশ্বজুড়ে আতংক

আন্তর্জাতিক

 ইসরাইলে জন্ম নেওয়া একটি লাল গাভীকে নিয়ে ইহুদী ও খ্রিষ্ট্রান ধর্মানুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নিয়েছে। তারা আনন্দ প্রকাশ করছে এই লাল গাভীর জন্যে। ইহুদীদের ধর্ম বিশ্বাস হলো তারা অপবিত্র আছে, এই গাভীর সূচিকরণের জল দিয়ে পবিত্র হতে হবে।

আর খ্রীষ্ট্রানরা মনে করে সলোমন টেম্পল নির্মান না হলে মাসিহা (জেসাস) আসবে না। আর এই লাল গাভীর আগমনের মাধ্যমে ধর্মীয়ভাবে টেম্পল অফ সলোমন নির্মানের পথ উন্মুক্ত হলো। তবে এখনো টেম্পল অফ সলোমন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা মুসলমানদের ১ম কেবলা পবিত্র মসজিদ আল আকসা ও ডোম অফ রক। আর টি, দ্য সান, এক্সপ্রেস, মিরর, টেম্পল ইন্সটিটিউট।

২ হাজার বছর ধরে ইহুদী ও খ্রীষ্ট্রানরা এই লাল গাভীর আশায় ছিল। ইহুদিরা বিশ্বাস করে, মাসিহার আগমনের প্রধান শর্ত হল ইহুদিদের ইসরাইলে ফিরে আসা, ইসরাইল নামক রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও Temple of Solomon নির্মাণ করা। কিন্তু টেম্পাল নির্মাণ তত সহজ নয়। নির্মাণ করতে হলে জাতিগত ভাবে ইয়াহুদিকে পবিত্র হতে হবে।

তাওরাতে বর্ণিত আছে- মৃত দেহকে কেউ স্পর্শ করলে, সে সাত দিন অপবিত্র থাকে, এই সাত দিনের তৃতীয় ও সপ্তম দিন তাকে সূচিকরণের জল দিয়ে পবিত্র হতে হবে যদি না হয় তাহলে সে অপবিত্রই থেকে যাবে। পবিত্র হতে হলে তাদের লাগবে একটি লাল গাভী যা দিয়ে তারা পবিত্রকরণ জল তৈরি করবে।

জানা গেছে, যেহেতু প্রায় দুই হাজার বছর ধরে লাল গাভীর জন্ম হয়নি তাই ইয়াহুদি পুরো জাতি অপবিত্র হয়ে আছে। অপবিত্র অবস্থায় টেম্পলের কাজ করা যাবে না, টেম্পলে প্রবেশও করা যাবে না। তাই তারা লাল গাভীর প্রতিক্ষা করছে। এমন গাভী যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয় হবে মাঝারি বয়সের। যা হতে হবে লাল রঙের।

এমন গাভী যা কখনো চাষ বা অন্য সেচন কাজে ব্যবহৃত হয়নি। গাভীর চুল বা ঘাড়ের পশম হতে হবে খাড়া। গাভীকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, অতপর তার খাক দিয়ে সূচিকরণ জল তৈরি করতে হবে। সে জল দিয়ে পুরো ইয়াহুদি জাতি পবিত্র হবে। হিব্রু বাইবেল (তাওরাতের) গণনাপুস্তকের ১৯ নং অনুচ্ছেদে শুচিকরণ জলের বিধি বর্ণনা করা হয়েছে,-

সদাপ্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, “এটি একটি বিধি, একটি ব্যবস্থা, যেটা আমি আদেশ করছি: তা এই ইস্রায়েল সন্তানদেরকে বল, তারা নির্দ্দোষ ও কলঙ্ক বিহীন, যোয়ালি বহন করে নি, এমন একটি লাল গাভী তোমার কাছে আনুক।

তোমরা ইলীয়াসর যাজককে সেই গাভী দেবে এবং সে তাকে শিবিরের বাইরে নিয়ে যাবে এবং তার সামনে তাকে হত্যা করবে। পরে ইলীয়াসর যাজক তার আঙ্গুল দিয়ে তার কিছুটা রক্ত নিয়ে সমাগম তাঁবুর সামনে সাত বার সেই রক্ত ছিটিয়ে দেবে। তার চোখের সামনে সেই গাভী পোড়ানো হবে; তার গোবরের সঙ্গে চামড়া, মাংস ও রক্ত পোড়ানো হবে।

যাজক এরসকাঠ, এসোব ও লাল রঙের লোম নিয়ে ঐ গরু পোড়ানো আগুনের মধ্যে ফেলে দেবে। তখন যাজক তার পোশাক ধোবে ও শরীর জলে ধোবে। পরে শিবিরে প্রবেশ করতে পারবে, যদিও যাজক সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে। – (Torah, book of Number, Chapter -19, verse 2-8)

সূত্র জানায়, ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো লাল গাভীর জন্ম হলে তারা বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। কাঙ্ক্ষিত লাল গাভী কি না তা নিরীক্ষণের জন্য প্রথমে জন্ম নেয়া লাল গাভীকে কাঙ্ক্ষিত লাল গাভী ক্যান্ডিডেট হিসেবে সিলেক্ট করে অতপর বেশ কয়েক মাস এমনকি পুরো বছর বিভিন্ন পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়। ইতিপূর্বে ১৯৯৭, ২০০২ ও ২০১৪ সালে তিনটি গাভীকে ক্যান্ডিডেট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল কিন্তু পরে পরীক্ষায় তারা জানতে পারে সেগুলোর কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত গাভী ছিল না।

 

হাইকলের জমি আমাদের হাতে আসা মাত্রই আল্লাহ লাল গাভীকে আদেশ করবেন, সে হাম্বা ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে তারপর আমরা শুরু করবো হাইকল নির্মাণ। বনী ইসরাইলের নবীগন এই ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন”–যায়োনিস্ট রাবাই বাক কোক। (আখবারুশ-শারক ১৩/০৫/১৯৯৭)

ইয়াহুদী আরেক এক পণ্ডিতের ভাষায়— “আমরা হাইকলের নির্ধারিত জায়গার সামনে পূর্বমুখী করে গাভী জ্বালাবো। এ কাজে বিভিন্ন বৃক্ষের কাঠ ব্যবহৃত হবে, তারপর ছাইকে পানি সরবরাহের মতো পাইপ লাইনের সহয়তায় প্রতিটি ইয়াহুদীর ঘরে ঘরে পোঁছে দেবো” (এভাবেই সকল ইয়াহুদী কে পবিত্র করা হবে)

জানা যায়, তৃতীয় টেম্পল স্থাপনের জন্য ইয়াহুদিরা ১৯৮৭ সালে The Temple Institute নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। তাদের কাজ হল টেম্পল তৈরির সকল কাজ আঞ্জাম দেয়া। ইতিমধ্যে তারা টেম্পলের কাঠামো নির্মাণ করেছে। এমনকি টেম্পলের ভিতরে ব্যবহৃত ও রক্ষিত বিশেষ বিশেষ আসবাব তৈরি করেছে।

Copper Laver, Golden Menorah (প্রধান কক্ষে ব্যবহৃত আলোকদানী), Table of the Showbread (কেক অথবা পাউরুটি জাতিয় বিশেষ খারাব যা সব সময় সেখানে রাখা থাকে)। বিশেষ করে Ark of the Covenant Temple। তাদের ভাষায় এটা হল একটি বক্স যাতে সিনাই পর্বত থেকে মুসা আলাহিস সালামের নিয়ে আসা টেন কমেন্ডমেন্ট, হারুন আলাহিস সালামের লাঠি ও আকাশের খাদ্য মান্না ও সালওয়া রক্ষিত আছে।

এদিকে টেম্পল ইন্সটিটিউট টেম্পল অফ সলোমন নির্মানের অর্থের জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এই মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে ১ লাখ ডলার কালেকশনের টার্গেট থাকলেও ক্যাম্পেইনের অল্প দিনের মাথায় ১ লাখ ৯ হাজার ডলার ডোনেশন পেয়েছে টেম্পল ইন্সটিটিউট।

এদিকে এক গবেষক দাবি করেছেন, যায়নিস্টরা হাইব্রিড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা প্রজননকৃত এই লাল গাভীকে দুনিয়ার সামনে নিয়ে এসেছে সলোমন টেম্পল নির্মানের জন্য।

সুত্র জানায়, ইসরাইল বহু আগে থেকেই আল আকসা মসজিদ ও ডোম অব রকের নিচে খননকাজ চালিয়েছে। এমতবস্থায় টেম্পল অব সলোমন নির্মানের জন্য মুসলমানদের পবিত্র স্থাপনার কোনরুপ ক্ষতি হলে আরব বিশ্বে আবারো বেজে উঠতে পারে যুদ্ধের দামামা বলে বিশ্লেষকদের আশংকা।

পশ্চিমা মিডিয়াগুলো বলছে, লাল গভীটির জন্ম হওয়ায় পৃথিবী আরমগেডনের মহাযুদ্ধের দিকেই ধাবিত হচ্ছে বলে খ্রিষ্টান ও ইহুদী ধর্মের বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মের ভবিষৎবাণীতেও এমন যুদ্ধের উল্লেখ রয়েছে যাকে মুসলিমরা মালাহামা বলে ।

শেষ জামানায় ইসলাম ধর্মে ইমাম মাহদি নামক এক ব্যাক্তি আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে, মুসলমানেরা তার প্রতিক্ষা করছে, এরপর ঈসা আলাইহিস ওয়া সাল্লাম আসার কথা উল্লেখ্য রয়েছে। ইহুদীরাও তাদের বাদসার আগমনের অপেক্ষায় আছে যা ইসলাম ধর্মে দাজ্জাল নামে পরিচিত। এছাড়া খ্রীষ্টান ধর্মানুসারিরাও তাদের মুক্তিদাতার অপেক্ষায় আছে যাকে মুসলিমরা বলে ঈসা আলাইহিস ওয়া সাল্লাম।

বিশ্লেষকদের আশংকা, সিরিয়া ও ইয়েমেনে চলা দীর্ঘদীনের যুদ্ধ, অশান্ত উপমহাদেশ এবং সর্বশেষ ইহুদীদের লাল গাভী খুজে পাওয়া বড় কিছুরই ইঙ্গিত। পৃথিবী ধংসের ব্যাপারে বিখ্যাত বিজ্ঞানী ড. স্টিফেন হকিং সহ অনেক বিজ্ঞানীই মন্তব্য করেছেন যেটার সাথেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মিলাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যৎবাণীকারীদের মধ্যে মিশেল দ্য নোস্ত্রদাম অন্যতম। পনেরশ শতকের এই ভবিষ্যদ্বক্তার অনেক ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। তারমতেও ২০১৮ সাল হবে খুবই ঘটনা বহুল। ২০১৮ সালকে নিয়ে করা ভবিষ্যৎবাণীর মাঝে ইতিমধ্যে মিলে গিয়েছে একটি। এছাড়াও একজন মুসলিম পন্ডিত শাহ নেয়ামতউল্লাহ যিনি ১১৫২ খ্রিস্টাব্দে একটি ভবিষ্যৎবাণী সংবলিত ফার্সি ভাষায় কাসিদা (কবিতা) লিখেছিলেন যেটার অনেক সত্য বলে প্রমান হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *