যেখানে অবতরণ করেছিলেন হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম !

ধর্ম
আদম পাহাড় (Adam’s Peak) – যেখানে অবতরণ করেছিলেন হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম !

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের আদি পিতা হযরত আবুল বাশার আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালামকে যে পাহাড়ের উপর অবতরণ করার সেই পাহাড়ের বিস্তারিত বিবরণ আমরা খুব কম সংখ্যক মানুষই জানি। তাই আসুন এখনই জেনে নেওয়া যাক, সেই আদম চূড়ার (Adam’s Peak) বিস্তারিত ইতিহাস।

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপদ নামক প্রদেশে এই চূড়াটি অবস্থিত (Sri Pada – the Holy Footprint)। খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম – এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র এই চূড়াটি (পাহাড়টি)। এই চূড়াতেই মানুষের আদি পিতা হযরত আবুল বাশার আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম বেহেশত থেকে সরাসরি দুনিয়াতে তাশরীফ নিয়েছিলেন। চূড়াটির চারদিকে সবুজের বিপুল সমারোহ, মাঝেমধ্যে পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা। পাহাড়ি চূড়ার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছো্ট নদী ও পাহাড়ি ঝরনা। সব মিলে এক মায়াবী নয়নাভিরাম দৃশ্য, যা যে কোন মানুষকে মুগ্ধ করবে।

হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম বেহেশত থেকে তাশরীফ নেন শ্রীলঙ্কায়, আর আমাদের আদি মাতা হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম তাশরীফ নেন জেদ্দাতে। শ্রীলঙ্কা থেকে জেদ্দার দূরত্ব বিমান পথে প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার।

এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৫৯ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। চূড়াটিতে হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম এর পা মুবারকের যে চিহ্ন রয়েছে তার পরিমাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্য – ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ হচ্ছে ২ ফুট ৬ ইঞ্চি।

আবিষ্কৃত হওয়ার পরে পদচিহ্নের চতুর্দিকে ঘেরা করে রাখা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক পরিভ্রমণ করেছে চূড়াটিতে। বিশ্বের চূড়াটিতে যারা পরিভ্রমণ করেছেন তারা এর চতুর্দিকে পরিদর্শন করা ছাড়াও স্পর্শ করে দেখেছেন হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম এর চিহ্ন মুবারক।

বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাই বেশি এই চূড়ায় যতায়াত করে। তারা মনে করে এই চূড়াটি তাদের অস্তিত্বের আদি প্রতীক। তবে চূড়াটিতে যাওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নয়। এই পাহাড় আরোহণ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চূড়ায় পৌঁছতে হলে যে পথ তা চলে গেছে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। সেই জঙ্গল নানারকম ঝুঁকিপূর্ণ। আছে বিষধর কীটপতঙ্গ। তবে চূড়ার কাছাকাছি একটি ধাতব সিঁড়ি আছে। তাতে রয়েছে ৪০০০ ধাপ। এর প্রতিটি ধাপ নিরাপদ নয়। তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষে যেতে হলে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে। জটিল এক আবহাওয়ার এক অঞ্চলের মধ্যে এর অবস্থান। বছরে মাত্র তিন থেকে চার মাস এ পাহাড়ে আরোহণ করা যায়। বছরের অন্য সময়টাতে এতে আরোহণ অসম্ভব হয়ে ওঠে। কারণ, কাব্যিক অর্থে বলা যায় এ পাহাড় তখন মেঘের ভিতর লুকিয়ে যায়। চারদিক থেকে মেঘে জেঁকে ধরে।

অতি চমৎকার এই চূড়াটি বছরের পর বছর অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু হ্রাস পায়নি।

এই পাহাড় ও পাহাড়ের পদচিহ্ন নিয়ে একটি বই লিখেছেন মারকাস অকসল্যান্ড। বইটির নাম ‘The Sacred Footprint: A Cultural History Of Adam’s Peak’।

পবিত্র এই পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন বিখ্যাত আরব দার্শনিক ইবনে বতুতা।

[ নোটঃ এই বিষয়টি নিয়ে গবেষক ও লেখকদের মাঝে মতভেদ আছে। হযরত আবুল বাশার আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম এর শ্রীলঙ্কায় অবতরণ এর তত্ব ও পদচিহ্নটি হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম এর এটা অনেকেই সঠিক বলে মেনে নেন নি।]

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *