জ্বীনদের প্রকারভেদ

জ্বীন নিয়ে যত কথা

#KnowYourDeen #KnowYourDeenপেইজ এর সৌজন্যে

…………………………

| জ্বিনদের প্রকারভেদ ||

পেত্নী, শাকচুন্নি, চোরাচুন্নি, পেঁচাপেঁচি, মেছোভূত, দেও, নিশি, মামদো ভূত, গেছোভূত, ব্রহ্মদৈত্য, আলেয়া, বেঘোভূত, কন্ধকাটা, কানাভুলো, ডাইনী। উইকিপিডিয়ার মতে বাংলা সংস্কৃতিতে এই ১৫ ধরনের ভূতের নাম পাওয়া যায়। ইংরেজি উইকিতে পাওয়া যায় আরো কিছু জাতের নাম – দামোরি, বেশো ভূত, বোবা, শেকল, গুদ্র বঙ্গা, ধান কুদ্রা, রাক্ষস, খোক্ষস, দৈত্য, পিশাচ, বেতাল, যক্ষ। এদের মধ্যে কিছু কিছু জাতের বর্ণনা বেশ হাস্যকর। যেমনঃ
.
শাকচুন্নি: এটা হলো বিবাহিত মহিলাদের ভূত। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে।
.
পেঁচাপেঁচি: এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। এরা সাধারনত জঙ্গলে দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে ও এরা শিকারের দেহ ভ্যাম্পায়ার স্টাইলে ছিড়ে ছিড়ে খায়।
.
মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।
.
ব্রহ্মদৈত্য: এধরনের ভূত সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ধরনের ভূতরা হলো ব্রাহ্মণের ভূত। সাধারনত এরা ধূতি ও পৈতা পরিহিত অবস্থায় বিচরণ করে। এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
.
ব্রাহ্মণ ভূত, শাখা সিঁদুর পরা শাকচুন্নী আর মামদো ভূতের বর্ণনা থেকে সহজেই বোঝা যায়, ঠিক কোন ধরনের বিশ্বাস থেকে এ ভূতের ধারণাগুলো এসেছে। যদি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন হরেক রকমের নানা প্রজাতির নাম-বর্ণনা। অজানাকে নিয়ে কৌতূহল, অজানাকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করা মানব চরিত্রের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে অদৃশ্য জগতেকে নিয়ে, গাইবকে নিয়ে মানুষের মধ্যে এই প্রবনতা অত্যন্ত তীব্র। আবার অজানাকে নিজের চিন্তার ছাঁচে ফেলে সংজ্ঞায়িত করার প্রবনতাও চিরাচরিত। তাই তো ব্রহ্মদৈত্য সবচেয়ে ভদ্র, সজ্জন ভূতের খেতাব পায়, আর ম্লেচ্ছ-যবনদের জন্য ভূতদের মধ্যেই আলাদা জাত হয়।
.
কিন্তু যদি কল্পনা কিংবা লোককাহিনীকে উৎস হিসেবে নেওয়া হলে হয়তো মনোরঞ্জন বা ইন্টারেস্টিং গল্পের কোন অভাব হয় না, কিন্তু তা দিয়ে সত্যের কাছে পৌছনো যায় না। গ্রামবাংলার বেতালের গল্প থেকে শুরু করে পশ্চিমের গ্রে, শ্যাডো ম্যান কিংবা মথম্যান – সবক্ষেত্রেই কথাটা সত্য। যে জগৎ আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে তা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও সঠিক ধারণা পেতে হলে আমাদের তাই ফিরে যেতে সেই উৎসের কাছে যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই – লা রইবা ফিহ। এ রহস্যময় জগত সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের নিতে হবে তাঁর কাছ থেকে যিনি এই জগতের স্রষ্টা।
.
অদেখা এ ভুবন সম্পর্কে আমাদের অ্যাপ্রোচটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত তাও আমাদের নিতে হবে সেই শাশ্বত উৎস থেকেই। আমরা যেটাকে সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃত জগত বলি সেটা আমাদের ইন্দ্রিয়ানুভূতির বাইরে হবার কারনে খুব সহজেই আমাদেরকে অভিভূত করে। যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটা আমাদের অনুধাবন ও আত্মস্থ করা প্রয়োজন তা হল–
.
রাব্বুল আলামিন এই অদৃশ্য জগত সম্পর্কে সবকিছু আমাদের জানিয়ে দেন নি। কিন্তু গাইব সম্পর্কে, অদৃশ্য জগত সম্পর্কে যতোটুকু জানা প্রয়োজন, যতোটুকু জ্ঞান আমাদের জন্য উপকারি আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জাল তা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের নিরাপদ থাকার জন্য, শয়তান ও তার গোত্রের অনিষ্ট থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য যা কিছু করনীয় তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের জন্য বর্ণিত করেছেন। আর যা তাঁর কাছ থেকে এসেছে নিশ্চয় তাতে কোন সন্দেহ নেই।
.
কিন্তু এর বাইরে গাইবের যে জ্ঞান আছে তা না আমরা অর্জন করতে সক্ষম, না তা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় আর না আমাদের জন্য কল্যানকর। আর যখনি মানুষ গাইবের ব্যাপারে সত্যকে ছেড়ে জল্পনা-কল্পনার অনুসরন করেছে তখনই সে এই রহস্যঘেরা জগতের ঘূর্ণিপাকে হারিয়ে গেছে, বিচ্যুত হয়েছে, পথভ্রষ্ট হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ বিষয়টি উপলব্ধি করার তাউফিক্ব দান করুন, আমাদের সকলে উপকারী জ্ঞান দান করুন এবং অনুপকারী জ্ঞান থেকে হেফাযত করুন।
.
তাই আসুন জল্পনা-কল্পনা, লোককাহিনী, সায়েন্স ফিকশান আর মিস্টিসিযমের জগৎকে ছেড়ে জেনে নেওয়া যাক ক্বুর’আন ও হাদিসের আলোকে আমাদের প্রতিবেশী অদৃশ্য জগতের বাসিন্দাদের সম্পর্কে। #JinnSeries- এ Know Your Deen এর আজকের ভিডিও জ্বিনদের প্রকারভেদ।
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *