সরকারি মাদরাসার ছাত্ররা কওমিতে এসে পরীক্ষা দেবে: আল্লামা শফী

জাতীয়

দারুল উলূম মউনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক  আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি একটি ঐতিহাসিক মাইল ফলক এবং সম্মানের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি আমাকে দিয়ে সম্মান দেখিয়েছেন। আমরা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সরকারী সনদ দিয়ে কওমি ওলামাদের সম্মানিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আজ (সোমবার) দারুল উলূম হাটহাজারীর ছাত্র মিলনায়তনে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মুমতাজ (জিপিএ ৫) প্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ এবং কওমী মাদরাসার ঐতিহ্য ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শফী বলেন, তোমরা  কওমি স্বীকৃতির যথাযথ মূল্যায়ন করো। একসময় তোমরা সরকারি মাদরাসায় চুপে চুপে পরীক্ষা দিতে, এখন তারা এখানে এসে পরীক্ষা দিবে।

মাও. নূরুল ইসলামের সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম জেলা বেফাক সভাপতি মাওলানা ছলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সম্মানীত হয়েছেন। তিনি ওলামা সমাজকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেছেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফীযেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। এসময় তিনি হেফাজত আমিরের সুস্বাস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে হাটহাজারী মাদরাসার সহকারি মহাপরিচালক  আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করতে হতে। বাতিলের দাঁতভাঙ্গা নয় মাড়িভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।

 

চট্টগ্রাম সাতকানিয়া আসনের এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, কওমী সনদের এমন স্বীকৃতি বিশ্বে বেনজীর। বিশ্বের কোথাও সরকারীভাবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতির নজির নেই। অন্যান্য দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সনদ দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারীভাবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই কওমি সনদের স্বীকৃতির জন্যে যারা কষ্ট করেছেন, বিশেষ করে আমাদের সবার উস্তাদ আল্লামা আহমদ শফী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ইয়ার মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং আমরা যারা আইন পাশ করেছি তাদের সবার জন্যে দু’আ করতে হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, বেফাক মহাপরিচালক মাওলানা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বেফাক সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন, বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, সহ-সভাপতি মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা ইসহাক নূর, হাটহাজারী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ্য মীর কফিল উদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বেফাক কর্তৃক চট্টগ্রাম বিভাগের জিপিএ ৫ পাওয়া ১৫০ জন ছাত্রকে পুরষ্কার ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *